রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক//
রাস্তাটা দেখলেই দুই চোখ জুড়িয়ে যায়। এটা যে বাংলাদেশের রাস্তা তা ভাবতেই অবাক লাগে। দৃষ্টি নন্দন এ রাস্তাটি দেখলেই মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত স্বপ্ন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় আজ সত্যিকারের রূপ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে যে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তার বাস্তব প্রমান মিলেছে “শেখ হাসিনার অবদান-পদ্মা সেতুর সমাধান” এর মাধ্যমে।
সারাদেশের ন্যায় দক্ষিণাঞ্চবাসীর ভাগ্যের উন্নয়নে দৃশ্যমান পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞ ও সেতুর দৃষ্টিনন্দন ছয় লেনের এপ্রোচ সড়ক দেখে এভাবেই ভালবাসার অনুভব প্রকাশ করেছেন সদ্য মালদ্বীপ থেকে ছুটিতে দেশে আসা বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার গেরাকুল মহল্লার বাসিন্দা রুবেল মিয়া।
শুধু রুবেল মিয়া একাই নয়; যেকেউ এ সড়কটি দেখলে একটিবারের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াতে হবে সড়কের সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য। প্রতিদিন বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের ভ্রমন পিপাসুরা খানিকের জন্য হলেও বিদেশ ভ্রমনের স্বাদ দেশের মাটিতে পেতে ছুটে যাচ্ছেন নিরাপদ সড়কের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত কাঠালবাড়ি-শিমুলিয়া রুটের জন্য পদ্মা সেতুর ছয় লেনের এপ্রোচ সড়কের সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য। এ সড়কে ভারী যানবাহনের জন্য পৃথক চার লেন ছাড়াও রয়েছে হালকা যানবাহনের জন্য আলাদা দুই লেনের সড়ক, ওভার পাস আন্ডারপাসসহ নানান আধুনিক সকল সুবিধা। সাথে আইল্যান্ডে দৃষ্টিনন্দন সব গাছ গাছালি।
অতীতের দুর্ঘটনা প্রবল এ সড়কটি গত দুই বছর ধরে উন্মুক্ত করার পর দুর্ঘটনার হার নেমেছে শুন্যের কোঠায়। এ রুটের যানবাহন চালক-শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবিদের দাবি, সারাদেশে এ ধরনের মহাসড়ক নির্মাণ করা হলে দুর্ঘটনার হার হ্রাস পাবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রাণের দাবি পদ্মা সেতুর সংযুক্ত সংযোগ সড়কটি দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য পৃথক চার লেন এবং তার একপাশে স্বল্পগতির গাড়ির জন্য দুই লেন মিলিয়ে মোট ছয় লেন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। গত দুই বছর আগে কাওড়াকান্দি ঘাট কাঠালবাড়িতে স্থানান্তরের পর খুলে দেয়া হয়েছে পদ্মা সেতুর এই এপ্রোচ সড়কের শিবচর ও জাজিরা অংশের প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার অংশ। এপ্রোচ সড়কটিতে যাওয়া আসার পৃথক দুই লেন করে চার লেন দ্রুতগতির ভারী যানবাহন চলাচল করে। এই চার লেনের মাঝের আইল্যান্ডজুড়ে রোপন করা হয়েছে দেশী-বিদেশী বাহারী ফুলের গাছ। ইতোমধ্যে ফুল ফুটে অপরূপ এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে মহাসড়কটি ঘিরে। আর একপাশে পৃথক দুই লেন দিয়ে চলাচল করে হালকা যানবাহন। এই দুই লেনের সাথে জনসাধারনের চলাফেরার জন্য রয়েছে পৃথক লেন। সড়ক সংলগ্ন বাজারগুলো ও স্ট্যান্ডগুলোতে উঠা-নামার ব্যবস্থা শুধুমাত্র হালকা যানবাহনের লেনের মধ্যে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ মহাসড়ক সংলগ্ন উপজেলাগুলোর অভ্যন্তরীণ যানবাহনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আন্ডারপাস এবং ওভারপাস। পদ্মা সেতুর জন্য নির্মিত এই পরিকল্পিত সড়কটিতে গত দুই বছরে দুর্ঘটনার হার নেমেছে শুন্যের কোঠায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ সড়কটির আদলে ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু হয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার সড়কের দুই লেন থেকে ছয় লেনে দেশের প্রথম এক্সপ্রেস হাইওয়ে উন্নীতকরনের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। এ প্রকল্পে একটি রেলওয়ে ওভার ব্রিজ, দুইটি বড় ব্রিজ, সাতটি ছোট ব্রিজ, দুইটি ফ্লাইওভার, ১৬টি কালভার্টও রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আব্দুল মোনেম লিমিটেড, চায়না আনহুই কোম্পানী, চায়না হারবার, এনডিইসহ একাধিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পুরো সড়কটি বাস্তবায়ন করছে। সড়কের কাজ শেষ হলে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হবার পাশাপাশি মহাসড়কে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।
এ রুটে নিয়মিত চলাচলকারী বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বেপারী পরিবহনের চালক বরিশালের শাহিন তালুকদার বলেন, কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে পাচ্চর পর্যন্ত পদ্মা সেতুর এপ্রোচ সড়কে হালকা ও ভারি গাড়ি আলাদা আলাদা লেন দিয়ে চলাচল করে থাকে। স্কুল, বাজার, বসতি সব কিছুই নিচের রাস্তা ব্যবহার করায় দুর্ঘটনা হয়না। সুপরিকল্পিত এপ্রোচ মহাসড়কটিতে পৃথক পৃথক লেনে ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল করায় এখানে দুর্ঘটনার হার হ্রাস পেয়েছে। রাস্তাটি ফোর লেন এবং পাশে দুটি সার্ভিস লেন রয়েছে। বাঁক দিয়ে নিরাপদ বেষ্টনি করা হয়েছে। যেখানে বাজার রয়েছে বা যেখানে মানুষ চলাচল করে সেখানে আন্ডারপাস বা সার্ভিস রোডের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি লেন আলাদা হওয়ার কারনে প্রতিটি যানবাহন তার নিজস্ব লেনে নিজস্ব গতিতে চলতে পারে। সরকারী সফর শেষে সদ্য বিদেশ থেকে ফেরা বরিশালের দুইবারের শ্রেষ্ঠ মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, নিরাপদ সড়ক কি এবং কেমন? তার জলন্ত উদাহরণ দৃষ্টিনন্দন পদ্মা সেতুর এপ্রোচ সড়ক।
Leave a Reply